এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > চার আনা দিয়ে একটা সাদা কাগজ কিনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যাবেন – হেভিওয়েট মন্ত্রীর রোষানলে একাধিক তৃণমূল নেতা

চার আনা দিয়ে একটা সাদা কাগজ কিনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যাবেন – হেভিওয়েট মন্ত্রীর রোষানলে একাধিক তৃণমূল নেতা

১০০ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প নিয়ে এবার দলীয় নেতৃত্বদের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কোচবিহারে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যাওয়ার কারণে জেলার ল্যান্সডাউন হলে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে দিনহাটা পঞ্চায়েত প্রধানদের দাঁড় করিয়ে ব্যাপক ভর্ৎসনা করলেন তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা।

শুধু তাই নয়,পাশাপাশি এই প্রকল্পের কাজে কাঙ্খিত সাফল্য না পেলে তাঁদের পদত্যাগ করারও কড়া নিদান দিলেন তিনি। বলেন,’মুখ্যমন্ত্রী ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কোচবিহার জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের ধমক দিয়েছিলেন সম্প্রতি। এরপর কিছুটা কাজ হলেও এখনো অনেকেই নিজেদের কাজ ঠিকমতো করছেন না বলে খবর রয়েছে। কিন্তু যাঁরা কাজ করতে পারছেন না তাঁরা পদত্যাগ করুন৷ আমরা নতুন লোক দেখে নেবো।’

এদিন সরকারি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন,দিনহাটা-১ এবং ২ ব্লকে ১০০ দিনের কাজের অবস্থা বেজায় খারাপ। এছাড়া নাজিরহাট-২,বামনহাট সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েতের কাজের বেহাল দশা দেখেও অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এরকম পরিস্থিতি হওয়ার কারণ ধমকের সুরে পঞ্চায়েত প্রধানদের কাছে মন্ত্রী জানতে চাইলে,দিনহাটার পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাই অবগত রয়েছেন। একারণেই কাজ করা যাচ্ছে না। তখন মন্ত্রী ধমকের সুর আরো চড়া করে বলেন,এসব বলে লাভ নেই। প্রতিকূলতাকে জয় করেই কাজ করতে হবে।

এরপর প্রধানদের একাংশ সাফাই দিতে গিয়ে এলাকার যুব এবং মাদারের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে মন্ত্রী ফের তাঁদেরকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেন। ক্ষেপে গিয়ে বলেন,’এসব শুনতে চাইছি না। যদি কেউ ভাবেন আমি করতে পারছি না, বা করতে পারব না তাঁদের কাছে অনুরোধ চার আনা দিয়ে একটা সাদা কাগজ কিনে ‘টু দি ডিএম’ লিখে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যাবেন। কাজও করতে পারবেন না, আবার ক্ষমতা ধরে রাখবেন, এসব হবে না।’

এরপর রেগে সুশান্ত বাবুকে বলেন,অজুহাত না দিয়ে সরকারের সহযোগিতা করতে। এবং আগামী সাতদিন সময়ের মধ্যে যদি বকেয়া কাজ শেষ না হয় তাহলে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর নিদান দেন তিনি। মন্ত্রীর কোপের মুখে পড়ে এরপর প্রধানরা আর কেউ গোষ্ঠীকোন্দলের সাফাই দিতে চাননি।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

আগামী মার্চের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ অনেকটা সম্পন্ন করে দেওয়া হবে বলেও অনেকেই মন্ত্রীর ধমকের থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন। এরপর দিনহাটা-২ বিডিও অমর্ত্য দেবনাথ ১০০ দিনের কাজের হিসাব দিতে উঠলে জেলাশাসক কটাক্ষ করে বলেন,’রূপকথার গল্প অনেকদিন ধরে শুনছি।’ এসব শোনার পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রাগ কমিয়ে শান্ত গলায় বলেন,দিনহাটায় ১০০ দিনের কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে৷ কাজে গতি না বাড়ালে জেলায় সাফল্য আসবে না। আর সেজন্যেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজটাই শেষ করার জন্য ২০ মার্চের সময়সীমা দিলেন তিনি।

উল্লেখ্য,১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে মুখ্যমন্ত্রীর মুকুটে নয়া পালক যুক্ত হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলাকে টেক্কা দিয়ে ১০০ দিনের কাজে ভারত সেরার খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের কাজে আরো গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আর তারপরই উত্তরবঙ্গের জেলায় এই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজের অবনতি লক্ষ্য করে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ দমন করতে পারলেন না উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। যেখানে এই প্রকল্পের কাজে রাজ্যের দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিকের জেলাগুলোর পারফরমেন্স এতো ভালো সেখানে উত্তরবঙ্গ পিছিয়ে পড়ল কীভাবে?

এটাই প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ালো তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতার। তাই লোকসভা ভোটের আগে দলীয় ভাবমূর্তিকে স্বচ্ছ করতে এই প্রকল্পের কাজে গতি বাড়ানোর কড়া নিদান দিলেন এদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী।

Top
error: Content is protected !!