এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে সষ্টাঙ্গে প্রণাম সরকারি আধিকারিকের, শুরু বিতর্ক

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে সষ্টাঙ্গে প্রণাম সরকারি আধিকারিকের, শুরু বিতর্ক

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় চমক জাগানো ফল করেছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪২ এ ৪২ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নকে চুরমার করে বাংলা থেকে ১৮ টি আসন ছিনিয়ে নিয়ে তৃনামল কংগ্রেসের ঘাড়ে রীতিমত নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা, এই নির্বাচনে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও রাজ্যের শিক্ষকদের ভূমিকা।

যেহেতু নির্বাচনের কাজে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও রাজ্যের শিক্ষকদের ভোটকর্মী হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তাই তাঁদের জন্য ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পোস্টাল ব্যালট দেয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই পোস্টাল ব্যালটের হিসাবে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের ৪২ টি আসনের মধ্যে ৪১ টি আসনেই ভরাডুবি হয়েছে শাসকদলের। ফলে রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই রাজ্যের রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও রাজ্যের শিক্ষকরা বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে ফেলেছেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল খুবই স্বাভাবিক। কেননা বিরোধী নেত্রী থাকার সময়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারেবারেই দাবি করে এসেছেন, যে সরকার সরকারি কর্মীদের বঞ্চনা করে তাদের এক মুহূর্তও সরকারে থাকার অধিকার নেই! অথচ নিজে শাসকের আসনে বসে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমান ডিএ বকেয়া রেখেছেন। পে-কমিশনের নামে প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত, এখনও তার কোনো নামগন্ধ নেই! এমনকি পিআরটি স্কেল নিয়ে আন্দোলন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন রাজ্যের শিক্ষকরাও।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এই পরিস্থিতিতে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ – বারবার এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের পাওনা-গণ্ডা মিটিয়ে দেবেন তাঁরা। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি পেতে সরকারি কর্মচারীরা বিজেপিকে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন ভোটবাক্সে।

কিন্তু, এবার এক সরকারি কর্মচারী সেসব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়ে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে সষ্টাঙ্গে প্রণাম করে বিতর্কের ঝড় তুলে দিলেন রাজ্য রাজনীতিতে। সূত্রের খবর, আজ মেদিনীপুরের সাংসদ ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, তাঁর খড়্গপুরের বাংলো থেকে বেরোতেই, এক ব্যক্তি লাফিয়ে লাফিয়ে সষ্টাঙ্গে তাঁকে প্রণাম করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যান দিলীপবাবু তো বটেই, সেখানে উপস্থিত সকলেই।

পরে জানা যায়, ওইভাবে সষ্টাঙ্গে দিলীপবাবুকে প্রণাম করা ব্যক্তিটি প্রবীর কুমার গাঙ্গুলি নামে রেলের এক আধিকারিক। তিনি বর্তমানে রেলের ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। একজন সরকারি আধিকারিক তথা রেলের সিনিয়র অফিসার ওইভাবে একজন সাংসদের সামনে শুয়ে পরে সষ্টাঙ্গে প্রণাম করায় রীতিমত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও সেই বিতর্ক উড়িয়ে গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, ওই ব্যক্তিকে প্রণাম করতে দিলীপবাবু জোর করেননি বা দিলীপবাবু তাঁকে চেনেনও না! কেউ যদি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার জায়গা থেকে কিছু করেন, তা নিয়ে বিতর্কের তো কিছু নেই! যদিও এই ব্যাপারে রেলের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায় নি। এমনকি, কেন প্রবীরবাবু হঠাৎ এমন কাজ করলেন, তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানা যায় নি।

Top
error: Content is protected !!