এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > শুভেন্দু-ম্যাজিক যে এখনও অব্যাহত, জনজোয়ারে ভেসে বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলের ‘নয়নের মনি’

শুভেন্দু-ম্যাজিক যে এখনও অব্যাহত, জনজোয়ারে ভেসে বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলের ‘নয়নের মনি’

লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দুটি আসনের মধ্যে একটি হারাতে হয় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে। মেদিনীপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ জেতেন। অন্যদিকে, ঘাটাল আসনে সেলিব্রিটি প্রার্থী দেব জয়ী হলেও বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ ঝড় তুলে দিয়েছিলেন। কেশপুর আসনে লাখের কাছাকাছি লিড না পেলে, এই আসনও বিজেপির কাছে হারাতে হত তৃণমূলকে।

আর এই জেলায় এরকম ভালো ফল করতেই, কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, সবং, পিংলা, পাঁশকুড়ার মত একের পর এক তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপি তৃণমূল নেতা কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল বলে শাসকদলের তরফে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে গেরুয়া শিবিরের দাবি ছিল, নির্বাচনের ফলেই প্রমাণিত এই অঞ্চলে তৃণমূলের উপর আর আস্থা রাখতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। তাই, দলে দলে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করছেন – আর, এই যোগদান আটকাতে না পেরে তৃণমূলই হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে।

এদিকে, তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের পরে গোটা এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন একশরও বেশি নেতা-কর্মী। ৩০ টিরও বেশি তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এমনকি, দখলও করে নেওয়া হয়েছিল বেশ কয়েকটি কার্যালয়। আর এরপরেই, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে বিজেপির উত্থান ঠেকাতে এবং দলের নেতা কর্মীদের মনে সাহস জোগাতে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি দায়িত্ব দেন পরিবহন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য যুব তৃণমূল সভাপতি শুভেন্দু অধিকারীকে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

দায়িত্ব পেয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের ‘নয়নের মনি’ শুভেন্দু অধিকারী, খড়্গপুর গ্রামীণ, শালবনি, গড়বেতা , ঘাটাল প্রভৃতি ব্লকে গিয়ে একের পর এক মিছিল ও জনসভা করেন। পুনরুদ্ধার করেন দখল হয়ে যাওয়া তৃণমূল কার্যালয়। স্বাভাবিক ভাবেই শুভেন্দু অধিকারীর মত দাপুটে নেতাকে সঙ্গে পেয়ে, বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন কর্মীরা বলে দাবি করতে থাকেন ঘাসফুল শিবিরের স্থানীয় নেতৃত্ব। আর এবার, রবিবার কেশপুরের সরুই গ্রাম থেকে কেশপুর বাজার পর্যন্ত এলাকায় জন সংযোগ পদযাত্রায় পা মেলান শুভেন্দু।

জনজোয়ারে ভেসে পদযাত্রা শেষে, কেশপুরে এক জনসভায় বক্তব্য পেশ করেন রাজ্যের এই হেভিওয়েট মন্ত্রী। সেখানে তিনি দাবি করেন, লোকসভা ভোটের সময় ব্যবধান ছিল ৯১ হাজার, কিন্তু, কেশপুরে এখন ভোট হলে তৃণমূল প্রার্থী এক লক্ষ ভোটে জিতবেন। সিপিএমের কিছু হার্মাদ, যারা বেনাচাপড়া কঙ্কাল কান্ড ঘটিয়েছে, তাদের দিয়ে কেশপুর দখলে নেমেছিল বিজেপি নেতারা। তাদের সঙ্গে ছিল ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া তৃণমূলের একজন নেতা আর দুর্নীতি গ্রস্ত এক প্রাক্তন পুলিশ সুপার।

শুভেন্দুবাবু আরও বলেন, জেলার বাইরে ৪-৫ টি ব্লক থেকে দলের কর্মী সমর্থকদের এনে মাঠ ভরানোর চেষ্টা করে কেশপুরের মানুষকে চমকাতে চেয়েছিলেন ওঁরা। এতে তাঁরা সফল হতে পারেন নি। কেশপুরের মানুষ ৩৪ বছরের বাম সন্ত্রাসকে রুখে দিতে পেরেছেন। এদিনের মিছিল থেকে আরো একবার প্রমান হলো কেশপুরের মানুষ বিজেপির গেরুয়া সন্ত্রাসকেও রুখে দেবেন। কেশপুরে আর কোনোদিন যে কোনো সিপিএমের হার্মাদ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

এরপরেই শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার ছাড়েন, এরপর কেশপুরে পুনরায় গোলমাল পাকাতে এলে মুখের মতো জবাব পাবে লাল জামা আর মাথায় গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা বিজেপির ভাড়া করা গুন্ডারা! প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়-এর মতো বিজেপি নেতারা কেশপুরে সভা করে বলেছিলেন কেশপুর হবে তৃণমূলের শেষপুর! ফলে, সেই কেশপুর যে এখন কার্যত বিজেপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তা রবিবারের জনসংযোগ যাত্রায় প্রমান করার ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা ও অন্যান্য স্থানীয় নেতৃত্বকে নিয়ে সেই কাজে যে তিনি ১০০% সফল মেনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Top
error: Content is protected !!