এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লোকসভায় ভরাডুবির পর রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে একাধিক হেভিওয়েট নেতা? বাড়ছে জল্পনা

লোকসভায় ভরাডুবির পর রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে একাধিক হেভিওয়েট নেতা? বাড়ছে জল্পনা

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা বইয়ে বাংলা থেকে ২২ টি আসন পেয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, ১৮ টি আসন পেয়ে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। আর তাই বঙ্গ রাজনীতি আপাতত দুভাগে বিভক্ত – একদল বলছেন, বিজেপি টাকা ছড়িয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কিছু আসন হয়ত জিতেছেন, কিন্তু এটাই শেষ – এরপরে বিধানসভা নির্বাচনে আর কিছু করতে পারবে না। অন্য অংশের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনেই ইঙ্গিত স্পষ্ট যে বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের উপর আস্থা হারিয়েছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনেই পরিবর্তনের পরিবর্তনে সরকারি সিলমোহর পড়বে।

আর এই তীব্র বিতর্কের মাঝেই কোথাও গিয়ে যেন চাপা পরে গেছে আরেকটি বড় তথ্য – তা হল বামেদের রক্তশূন্যতা! একটা সময় ছিল, যখন বাংলা আর বামফ্রন্ট যেন সমার্থক ছিল। জ্যোতি বসুর তৎকালীন রেকর্ড সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকা, একটুর জন্য ‘ঐতিহাসিক ভুল’ করে প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যের – কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যতের মত চমকপ্রদ স্লোগান বা বামফ্রন্টের বিকল্প উন্নততর বামফ্রন্টের মন ভোলানো রাজনৈতিক ‘পাঞ্চ’। কিন্তু সেসব এখন অতীত – এই লোকসভা নির্বাচন স্পষ্ট করে দিল, এই বামফ্রন্টের এখন ক্ষমতায় আসা নয়, লড়াই হয় যদি দ্বিতীয় হওয়া যায় – তার জন্য!

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এতদিন বামনেতারা বলতেন, বামপন্থা এত সহজে খতম হওয়ার নয় – আমরা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার ৮ বছর পরেও শুনছি রক্তক্ষরণ! মানে বুঝে নিন কত বাম রক্ত আছে যা প্রায় একটা গোটা দশক ধরে ক্ষরন হয়েও শেষ হচ্ছে না! ঠান্ডা ঘরে বসে সেইসব মন ভোলানো কথা বলার দিন বোধহয় শেষ – কেননা এই নির্বাচন দেখিয়ে দিল আর রক্তক্ষরণ নয়, বামফ্রন্ট এখন কার্যত রক্তশূন্য। বাংলাকে ৩৪ বছর ধরে শাসন করা বামফ্রন্টের গড় ভোট নেমে এসেছে মাত্র ৭%-এ, গোটা রাজ্যে কোনো আসনে জেতা তো দূরের কথা, দ্বিতীয়ও হওয়া হয় নি! এমনকি যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য ছাড়া, গোটা রাজ্যে কোনো বামপ্রার্থী নিজের জামানত পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি।

আর এই সবের পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনা ছড়িয়েছে, তাহলে কি এবার নতুন মুখদের সুযোগ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে যেতে চলেছেন বিমান বসু, সূর্য্যকান্ত মিশ্ররা? কেননা বামফ্রন্টেরই একাংশ মনে করছেন, দলের হাল এর থেকে খারাপ আর কি হতে পারে? সর্বকালীন খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছে দল – এসময়েই নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত সময়। তাহলেই তাঁরা ময়দানে নেমে নতুন করে শুরু করতে পারবেন – তাতে হারানোর তো কিছু নেই! বরং সেখানে যদি ভুলও করেন – ভুল করতে করতেই শিখবেন! আর তাই, বাংলায় নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পরে এতদিন দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করা একঝাঁক নেতা বোধহয় এবার বিশ্রাম নিতে চলেছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Top
error: Content is protected !!